Tufanganj, Coochbehar, Cooch Behar
Barman Shidol shop
ঐতিহ্যের ছোঁয়া, স্বাদে ভরপুর কোচবিহারের শিদল (Kochbihar Shidol)
শিদল ইতিহাস ও উৎপত্তি
শিদল মূলত উত্তরবঙ্গ (কোচবিহার-জলপাইগুড়ি), আসামের নিম্নভাগ এবং বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উদ্ভূত একটি প্রাচীন খাদ্য।
🗳️প্রাচীনকালে টাটকা মাছ সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় বিকল্প উপায়ে প্রোটিন সঞ্চয়ের প্রয়োজনে এটি আবিষ্কৃত হয়।
🗳️মূলত রোদে শুকানো ছোট পুঁটি মাছের শুঁটকি এবং মান কচুকে একসাথে কুটে মণ্ড তৈরি করে গোল চ্যাপ্টা আকার দেওয়া হয়।
🗳️ উত্তরবঙ্গের বিশেষ করে রাজবংশী ও দেশীয় জনগোষ্ঠীর হাজার বছরের পুরনো এক ঐতিহ্যবাহী খাবার।
🗳️শিদল কেবল সুস্বাদু নয়, বরং এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে যা শরীরের জন্য উপকারি।
🗳️বর্তমানে এটি ভর্তা, চাটনি বা বিভিন্ন শাক-সবজির (যেমন পেলকা) সাথে মিশিয়ে রান্না করা হয়।
🗳️প্রতিকূল সময়ে খাদ্য ঘাটতি মেটানোর এক অনন্য দেশীয় বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি হিসেবে শিদল আজও জনপ্রিয়। Online Retailer and wholesaler Barman Shidol Shop Tufanganj -Coochbehar
কোচবিহারের শিদল
উত্তরবঙ্গ আর সংলগ্ন কামতাপুরী এলাকালাত কয়েকশ বছর ধরি চলা এক খাদ্যাভ্যাস। কোচবিহারের (আর্দ্র) আবহাওয়া আর খাল-বিল-ডোবার আধিক্যের বাদে বর্ষাকালে মেলা পুঁটি মাছ পাওয়া যায়। ওই বাড়তি মাছগুলাক মেলাদিন ধরি জমানি থোয়ার (সংরক্ষণ) দরকারি থাকি শিদল বানানোর বুদ্ধিটা আসিছে।
১. মাছ শুকানো (প্রথম ধাপ) প্রথম ধাপে, তাজা ছোট পুঁটি মাছগুলোকে পরিষ্কার করে বাঁশের চাটাই বা মাদুরের ওপর কড়া রোদে ৩-৪ দিন ধরে খুব ভালো করে শুকাতে হয়। মাছগুলো যেন একদম ঝরঝরে ও শক্ত হয়ে যায়।
২. শুঁটকি মাছ গুঁড়ো করা রোদত শুঁকা শক্ত মাছগুলাক এরপর শিল-নোড়া বা ঢেঁকিতে আধভাঙ্গা বা গুঁড়ো করে নিতে হয়।
৩. কচুর ডাঁটা ও মূল কাটা তাজা মানকচুর ডাঁটা এবং মূল অংশ পরিষ্কার করে ধুয়ে বঁটি দিয়ে ছোট ছোট করে কেটে নিতে হয়।
৪. মাছ ও কচুর মিশ্রণ তৈরি মাছের গুঁড়ো (সিতা) এবং ছোট করে কাটা কচু একনাগাতে ভালো করে মেশানো হয়।
৫. শিদলের আকার দেওয়া মাছ ও কচুর মিশ্রণটি ৩-৪ দিন রাখার পর, তাতে সর্ষের তেল দিয়ে হাত দিয়ে মেখে গোল গোল বল বা চ্যাপ্টা চাকতির আকার দেওয়া হয়।
৬. রৌদ্রে পুনরায় শুকানো তৈরি করা এই বল বা চাকতিগুলোকে আবার কড়া রোদে ২-৩ দিন শুকাতে হয়। এতে বাইরের স্তরটি শক্ত হয়ে যায়, যা ভেতরের আর্দ্রতা ও রস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৭. সংরক্ষণ ও পরিপক্কতা তৈরি হয়ে যাওয়ার পর শিদলগুলো মাটির হাঁড়ি বা কৌটায় সংরক্ষণ করা হয়। এই সংরক্ষিত শিদল যত পুরোনো হয়, স্বাদ তত বাড়ে এবং এটি ২-৩ বছর রেখে খাওয়া যায়।